রবিবার, ১৬ জুন ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৯, ০৮:০১:৫৪

সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যদিয়ে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবের সমাপ্তি

সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্যদিয়ে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবের সমাপ্তি

রাঙ্গামাটিঃ-পাহাড়ী-বাঙ্গালী হাজারো মানুষের মিলন মেলায় মারমা সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই পানি খেলা আযোজনের মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জাতি গোষ্ঠীর পুরনো বর্ষ বিদায় ও নতুন বর্ষ বরণের বৈসাবি উৎসব শেষ হচ্ছে। নতুন বর্ষ বরনের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মারমা পাড়াতে বইছে জল উৎসবের জোয়ার। তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বরণ করে নেয় নতুন বছরকে।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) রাঙ্গামাটির কাপ্তাই রাইখালী নারানগিরি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে স্বর্গীয় অনন্ত চৌধুরী মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত সাংগ্রাইয়ের ঘণ্টা বাঁজিয়ে উৎসবে পানি খেলার উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। পবিত্র পানির ধারা ধুয়ে মুছে দিবে পুরনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি। পাড়ায় পাড়ায় চলে মৈত্রী পানি বর্ষণের আয়োজন।
পরে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুরু হয় পানি খেলা। মারমা তরুণ-তরুণীরা কয়েকটি দলে অংশ নেয় পানি খেলায়। জল উৎসবের পাশাপাশি চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মারমা নারী পুরুষ এ উৎসবে যোগ দেয়। তারা নেচে গেয়ে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। পাহাড়ে  সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে বৈসাবি’র জল উৎসবকে একটি শ্বাশত রূপ মনে করা হয়।
এর আগে রাঙ্গামাটি মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা সভাপতি অংসুই প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রিয়াদ মেহমুদ, রাঙ্গামাটি ডিজিএফআই কমান্ডার কর্ণেল মোঃ শামসুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক  এস এম শফি কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউল্লাহ সহ স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দীপংকর তালুকদার তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছরেই হয় কিন্তু এবছর হওয়া না হওয়া দোলাচল কিন্তু তার পরও আমরা সফল হয়েছি। অনিশ্চয়তার কারণ হচ্ছে গত মাসের ১৮ তারিখ নির্বাচনী কাজের সাথে জড়িতদের গাড়ী বহরে কাপুরুষের মতো হামলা চালিয়ে কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। স্বার্থান্বেষী মহল মনে করেছিলো এই হামলার ঘটনার পর পর প্রশাসন পাহাড়ের সাধারণ মানুষের উপর আক্রমন করবে ধরপাকড় করবে কিন্তু প্রশাসন খুবই বুদ্ধিমর্তার সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। প্রশাসন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। তাই স্বার্থান্বেষী মহল নতুন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো কোন ইস্যু পায়নি। তারা ইস্যু না পেলেও পাহাড়ের সাধারণ মানুষদেকে বৈসাবি উৎসব পালন না করার জন্য আওয়াজ তুলেছে। কিন্তু পাহাড়ের সাধারণ মানুষকে তাদের সামাজিক উৎসবে মাতারোয়ারা মানুষ তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে আনন্দঘন পরিবেশে বৈসাবি উৎসব পালন করেছে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ ফুল বিজু, সুন্দর অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে, ১৩ মুল বিজু আন্দন ঘন পরিবেশে পাহাড়ের মানুষ ঘুড়ে বেরিয়েছে, ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালন করেছে, আজ সাংগ্রাই জলোৎস উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। এখানে পাহাড়ী, বাঙ্গালী সকল সম্প্রদায় আনন্দ ঘন পরিবেশে উৎসবে মেতে উঠেছে এতেই এটাকেই বলে উৎসবের শ্বাসত রূপ। এই শ্বাসত রূপটাকেই আমরা ধরে রাখতে চায়। এই শ্বাসত রূপটাকে যাতে আমরা ধরে রাখতে না পারি তার জন্য কিছু মানুষ একটি মহল সব সময় সমস্যার সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, আজ যেমন সকল মহলের প্রচেষ্টায় উৎসব পালণ করতে পেরেছি। তেমনি আগামী দিন গুলোতে এই ধরনের মহলকে পরাজিত করার জন্য, তাদের সকল অপশক্তিকে ব্যার্থ করে দিতে পারে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এই ক্ষেত্রে বড় ভ’মিকা পালন করছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চান সকল বর্ণ ধর্ম, সম্প্রদায় বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর মানুষ তাদের ন্যার্য্য অধিকার নিয়ে তাদের ধর্ম, কর্ম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেন চর্চা করতে পারে এবং পালন করতে পারে।
দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে এবং দেশের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। এটাই হলো সাধারণ মানুষের সফলতা। তার মানে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হচ্ছে, আগামীতে আরো পরাজিত হবে বলে আমরা আশা করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামও এগিয়ে যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি মহল সব সময় বিচ্ছিন্ন ভাবে দেখানোর চেষ্টা করে। পার্বত্য চট্টগাম বাংলাদেশ থেকে কোন বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়। দেশের অগ্রগতি যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।   
পুরাতন বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এ জল উৎসব  সমবেত হয় পাহাড়ের মারমা স¤প্রদায়ের মানুষেরা। এটি মারমাদের প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠান হওয়ায় পালন করা হয় জাকজমকভাবে।
রাঙ্গামাটির ৬টি উপজেলাসহ বিভিন্ন দূরদূরান্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এসেছে এই পানি খেলায় অংশগ্রহন করতে। তারা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে।
মারমারা পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই জল উৎসব করে থাকে। পুরাতন বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এ জল উৎসবে সমবেত হয় পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায়ের মানুষেরা। আর দিন ব্যাপী চলে এই আয়োজন। তবে মারমাদের পানি খেলা মধ্যে দিয়ে বৈসাবী উৎসব শেষ হয়ে গেলেও এর রেশ থেকে যায় প্রায় পুরো এপ্রিল মাস জুড়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

  কাপ্তাই হ্রদ থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

  আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য আমাকে নয়, করেছে রাঙ্গামাটিবাসীকে-দীপংকর তালকদার

  কাপ্তাইয়ে তুঁত চারা উৎপাদন বিষয়ে ৪ দিনের প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন

  সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের সদস্য মনোনিত হওয়ায় স্বেচ্চাসেবক লীগের ফুলেল শুভেচ্ছা

  ৭২ঘন্টা বিদ্যুৎ নেই রাঙ্গামাটির তিন উপজেলায়, গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি

  ভালো কাজের মাধ্যমেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন আরো শক্তিশালী হবে-আকবর হোসেন চৌধুরী

  লংগদুতে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা

  কাপ্তাইয়ে ১৬ ঘন্টা পর ভেসে উঠলো পানিতে তলিয়ে যাওয়া হামেদের মরদেহ

  কাপ্তাইয়ে আইন-শৃঙ্খলা সভাঃ সড়ক দূর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক পুলিশকে আরো তৎপর হওয়ার আহবান

  কাপ্তাইয়ে পানিতে ডুবে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২জনের মৃত্যু, নিখোঁজ-১, উদ্ধার অভিযান চলছে

  বরকল উপজেলা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা সুশাসনের অভাবের ফল। আপনি কি তা মনে করেন?