বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯, ১০:৪৪:০২

জুরাছড়িতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হলো বৈসাবি উৎসব

জুরাছড়িতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে শুরু হলো  বৈসাবি উৎসব

জুরাছড়িঃ-আদিবাসীদের প্রধান উৎসব বৈসাবি আনন্দে পাহাড়ে এখন নানা রঙে রঙ্গিন। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) জুরাছড়ি উপজেলায় লুলাংছড়ি ও কুসুমছড়ি মৌজার হেডম্যান-কার্ব্বারীদের উদ্যোগে খাগড়াছড়ি ছড়ায় (নদী) ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের বৈসাবির উৎসবের সূচনা করা হয়েছে। এতে অসংখ্য শিশু, তরুন তরুনী স্ব-স্ব ঐতিহ্য পোশাক পড়ে এবং ফুলে সজ্জিত হয়ে অংশ গ্রহন করে।
১৩ এপ্রিল ২য় দিন মূল বিজু ও ১৪ এপ্রিল ৩য় দিন গোইজ্জ্যা-পোজ্জো দিন নামে পালন করবে এখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা। আদিবাসীরা বিশেষ করে তরুন-তরুনীরা মেতেছে বৈসাবী উৎসবে। বৈসাবিকে ঘিরে সপ্তাহজুড়ে চলছে নানা আয়োজন। বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় সুবলং শাখা বন বিহারে আজ থেকে তিন দিন ব্যাপী ত্রিপিটক পূজা। পূজার পাশাপাশি মঙ্গল শোভা যাত্রা, সংর্ঘ দান, অষ্টপুস্কার দান, বুদ্ধ মুর্তি দান পঞ্চশীল গ্রহন করা হয়। শোভা যাত্রায় নেতৃত্ব দেন নব নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা।
এদিকে লুলাংছড়ি মৌজার হেডম্যান আনন্দ মিত্র দেওয়ান ও কুসুমছড়ি মৌজার হেডম্যান মায়া নন্দ দেওয়ানসহ এলাকার কার্ব্বারী ও ইউপি সদস্যদের সহযোগীতায় ডেবাছড়া ও লুলাংছড়ি মাঠে পৃথক ভাবে চলছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহি বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগীতা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এলাকার একজাগ তরুন-তরুনী।
উপজেলা জুড়ে বৈসাবি উৎসবকে ঘিরে সেজেছে নানা বৈচিত্র্যের ঐকতানে। প্রতিটি পরিবারের মাঝে যেন আনন্দের বারতা। সব দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে তৈরী হয়েছে আদিবাসীরা।
চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু। উৎসবের প্রথম দিনে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশু-তরুন-তরুনীরা ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আর চৈত্রসংক্রান্তির দিনকে বলা হয় মূল বিজু। এদিনে ঘরে ঘরে রান্না হবে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাজন’। তা দিয়ে দিনভর চলে অতিথি আপ্যায়ন। চাকমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পচলিত আছে, বিজু উৎসবের দিন কারও বাড়িতে গেলে অবশ্যই পাজন খেতে হয়। কেবল একটি বাড়ীতে নয়, খেতে হবে অন্তত ১০টি বাড়ীতে। না হয় পরের জম্মে মানবজম্ম নাও হতে পারে।
পাজন অর্থাৎ পাঁচন কেবল সুস্বাদু সবজির ঘন্ট নয়, এটি চাকমা-মারমা-ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উৎসব পালনের অন্যতম উপকরণ। ঈদে যেমন সেমাই, তেমনি বিজু বা নব্বষের পার্বণে পাজন অতিথি আপ্যায়নে অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। এছাড়া এর সঙ্গে থাকবে আদিবাসীদের তৈরী নানা পিঠা ও পায়েশ। তবে কালের সামাজিক বির্বত্তনে বিলুপ্ত প্রায় চোরই মদ। এই চোরাই মদ বহু আগে অতিথি আপ্যায়নের একটি অংশ ছিল।
অন্যদিকে বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। জুরাছড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে দিনব্যাপী বর্ষবরণের আয়োজন। উপজেলায় বৈসাবি ও বাংলা বর্ষবরনের আয়োজন নিয়ে জুরাছড়িতে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এই বিভাগের আরও খবর

  ৬টি ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার গ্রহন করলো কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ

  তামাকের বিষাক্ত গন্ধে ভয়াবহ রোগ দেখা দিচ্ছে-সুরেশ কুমার চাকমা

  রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে অজ্ঞাতনামা পাহাড়ি যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

  সচেতনা ও যক্ষ্মা নিরোধমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহনের কারণে যক্ষ্মা রোগ অনেকাংশে কমে এসেছে-ডা. শহীদ তালুকদার

  কাপ্তাইয়ে উন্নত রাষ্ট্র ও জাতি গঠন বিষয়ে জনগনকে অবহিত ও সম্পৃক্তকরণ বিষয়ক আলোচনা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন

  অস্ত্র ও নগদ অর্থসহ বাঘাইছড়িতে জেএসএস ( মূল) দলের এক চাদাঁবাজ আটক

  শিক্ষক ও অভিভাবকদের সু সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্টি করতে হবে শিক্ষার গুনগত পরিবেশ-বিধান চাকমা

  স্বাস্থ্য বিভাগের সংবাদ সম্মেলনঃ রাঙ্গামাটিতে ৭৯ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর হবে

  জুরাছড়িতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ উপলক্ষে তথ্য সংগ্রহকারী-সুপাভাইজারদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

  পাহাড়ে উন্নয়নের আলো পৌছে দিতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার-জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা

  পার্বত্যাঞ্চলে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে-মোঃ আরিফ আহমদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির জন্য সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা সুশাসনের অভাবের ফল। আপনি কি তা মনে করেন?