শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ,২০১৯

Bangla Version
SHARE

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৮:৩৭:২০

অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত লংগদুর কাট্টলী বিল

অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত লংগদুর কাট্টলী বিল

মিল্টন বাহাদুরঃ-অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত রাঙ্গামাটি শহর। শীত প্রধান দেশগুলো থেকে প্রতিদিন অগণিত অতিথি পাখি আসছে নৈসর্গিক এ পাহাড়ি জনপদে। পাহাড়, বন আর স্বচ্ছ জলাধার অতিথি পাখিকে বেশি আকর্ষণ করে। তাই অতিথি পাখি ভিড় জমাচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তর কাপ্তাই হ্রদের আশে পাশে এলাকাগুলোতে।
শীত প্রবণ দেশ থেকে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে সবুজ পাহাড়ের হাতছানিতে প্রকৃতির ডাকে ছুটে আসে অতিথি পাখি। হ্রদের জলেভাসা চরগুলোতে শত শত অতিথি পাখির কলতানে মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠে প্রকৃতি। বিশেষ করে শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলাসহ রাঙ্গামাটির ডিসি বাংলো, সুভলং, লংগদু, কাট্টলী, মাইনিমুখ, সাজেক, বাঘাইছড়ি, হরিণা, বিলাইছড়ি, বরকলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে অতিথি পাখির দল। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পাখির কলরবে কানায় কানায় ভরে যায় নদীর তীর ও জলেভাসা চরগুলো। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত অতিথি পাখি বেশি দেখা যায়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শীতের শুরুতেই পাহাড়ি অঞ্চলে অতিথি পাখি এসেছে চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ করে লংগদুর কাট্টলী বিলে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি পাখিদের আনাগোনা। ঝাঁকে ঝাঁকে এইসব পাখি এসে বসে বিলে। কাট্টলী বিল তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিলজুড়ে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ স্থান হিসেবে অতিথি পাখিরা বেছে নিয়েছে এ বিলটি। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। আর শীতে বেড়াতে যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলি বিলেই আসেন। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত হয়ে থাকে এই কাট্টলি বিলটি।
জলেভাসা চর ও নদীর পাড়ে যেসব পাখি বেশি দেখা যায় এর মধ্যে রয়েছে- পাতিহাঁস, ডাহুক, কালাম, বক, বইধরসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। তবে প্রতিবছর শীতের পাখি পাহাড়ে আসলেই কিছুসংখ্যা অসাধু ব্যক্তি অতিথি পাখি নিধনের জন্য উঠে পড়ে লাগে। বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে শিকার করা হয় অতিখি পাখি। অতিথি পাখি শিকারের জন্য তৈরি করা হয় নতুন নতুন ফাঁদ। তাই শিকারিদের নির্বিচারে পাখি হত্যার কারণে এখন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় কমে আসছে অতিথি পাখিদের আনাগোনা।
বিলের আশপাশের লোকজন ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় থেকে সাত বছর ধরে এখানে অতিথি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। শীতের শুরুতেই হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে এগুলো খাবারের জন্য ছুটে আসে বিলে। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়তে থাকে। তবে কিছু কিছু লোক এইসব শীতের পাখিদের ধরতে বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে শিকার করে থাকে। এলাকার বিভিন্ন ডুবোচরে তারা ফাঁদ পেতে এইসব অতিথি পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করে দেয়।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর উত্তরের শীত প্রধান দেশ থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা ফিরে যায়। তবে এভাবে অতিথি পাখি শিকার হতে থাকলে, একদিন অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকৃতির সৌন্দর্যও একদিন হারিয়ে যাবে। এ বিষয়ে সচেতন হয়ে পাখি শিকার বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এই বিভাগের আরও খবর

  রাঙ্গামাটি ব্লাড ব্যাংক এই সংগঠনের উদ্যোক্তা ও কর্মীরা এখন মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত-দীপংকর তালুকদার এমপি

  শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন ও শিক্ষকের ভূমিকায় জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ!

  সমাজের জন্য আর কিছুই করা হলো না জুরাছড়ি সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য কৃষ্ণা চাকমার

  রাঙ্গামাটির সাজেকে ভ্রমণে এসে ঢাকার শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরিচালকের মৃত্যু

  রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের বিকাশে কেউ এগিয়ে আসলে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে-দীপংকর তালুকদার এমপি

  রাঙ্গামাটিতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা

  শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি নিজেকে সৎ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে-এ কে এম মামুনুর রশিদ

  রাঙ্গামাটিতে বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

  সাজেকে পানীবাহী জিপগাড়ী থেকে পড়ে পর্যটক নিহত

  রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়পত্র নিয়েছেন সাংবাদিক সোলায়মান

  বরকলের সীমান্তবর্তী ঠেগা খুব্বাং বাজারের অগ্নিকান্ডে ৩৬টি দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে সরকার গঠন ‘স্বাভাবিক হয়নি’ মন্তব্য করে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘অস্বাভাবিক’ নির্বাচনের পর এই ‘অস্বাভাবিক’ সরকার বেশি দিন টিকবে না। আপনি কি তা মনে করেন?