শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৯, ০৮:৩৭:২০

অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত লংগদুর কাট্টলী বিল

অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত লংগদুর কাট্টলী বিল

মিল্টন বাহাদুরঃ-অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত রাঙ্গামাটি শহর। শীত প্রধান দেশগুলো থেকে প্রতিদিন অগণিত অতিথি পাখি আসছে নৈসর্গিক এ পাহাড়ি জনপদে। পাহাড়, বন আর স্বচ্ছ জলাধার অতিথি পাখিকে বেশি আকর্ষণ করে। তাই অতিথি পাখি ভিড় জমাচ্ছে এশিয়ার বৃহত্তর কাপ্তাই হ্রদের আশে পাশে এলাকাগুলোতে।
শীত প্রবণ দেশ থেকে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে সবুজ পাহাড়ের হাতছানিতে প্রকৃতির ডাকে ছুটে আসে অতিথি পাখি। হ্রদের জলেভাসা চরগুলোতে শত শত অতিথি পাখির কলতানে মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠে প্রকৃতি। বিশেষ করে শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলাসহ রাঙ্গামাটির ডিসি বাংলো, সুভলং, লংগদু, কাট্টলী, মাইনিমুখ, সাজেক, বাঘাইছড়ি, হরিণা, বিলাইছড়ি, বরকলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে অতিথি পাখির দল। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পাখির কলরবে কানায় কানায় ভরে যায় নদীর তীর ও জলেভাসা চরগুলো। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত অতিথি পাখি বেশি দেখা যায়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শীতের শুরুতেই পাহাড়ি অঞ্চলে অতিথি পাখি এসেছে চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ করে লংগদুর কাট্টলী বিলে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি পাখিদের আনাগোনা। ঝাঁকে ঝাঁকে এইসব পাখি এসে বসে বিলে। কাট্টলী বিল তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিলজুড়ে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ স্থান হিসেবে অতিথি পাখিরা বেছে নিয়েছে এ বিলটি। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। আর শীতে বেড়াতে যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলি বিলেই আসেন। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত হয়ে থাকে এই কাট্টলি বিলটি।
জলেভাসা চর ও নদীর পাড়ে যেসব পাখি বেশি দেখা যায় এর মধ্যে রয়েছে- পাতিহাঁস, ডাহুক, কালাম, বক, বইধরসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। তবে প্রতিবছর শীতের পাখি পাহাড়ে আসলেই কিছুসংখ্যা অসাধু ব্যক্তি অতিথি পাখি নিধনের জন্য উঠে পড়ে লাগে। বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে শিকার করা হয় অতিখি পাখি। অতিথি পাখি শিকারের জন্য তৈরি করা হয় নতুন নতুন ফাঁদ। তাই শিকারিদের নির্বিচারে পাখি হত্যার কারণে এখন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় কমে আসছে অতিথি পাখিদের আনাগোনা।
বিলের আশপাশের লোকজন ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় থেকে সাত বছর ধরে এখানে অতিথি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। শীতের শুরুতেই হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে এগুলো খাবারের জন্য ছুটে আসে বিলে। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদের সংখ্যাও দিন দিন বাড়তে থাকে। তবে কিছু কিছু লোক এইসব শীতের পাখিদের ধরতে বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে শিকার করে থাকে। এলাকার বিভিন্ন ডুবোচরে তারা ফাঁদ পেতে এইসব অতিথি পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করে দেয়।
প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর উত্তরের শীত প্রধান দেশ থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা ফিরে যায়। তবে এভাবে অতিথি পাখি শিকার হতে থাকলে, একদিন অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকৃতির সৌন্দর্যও একদিন হারিয়ে যাবে। এ বিষয়ে সচেতন হয়ে পাখি শিকার বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

এই বিভাগের আরও খবর

  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের নিরাপত্তা বিষয়ক মতবিনিময় সভা

  কেপিএমে গ্যাসের পূর্ণ সংযোগ দিয়ে কাগজ উৎপাদন সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌছে দিতে নিরাপত্তার প্রয়োজন-জোনায়েত কাউসার

  ৭২ ঘন্টায় রাঙ্গামাটিতে কোন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি

  পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে-সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার

  বাঘাইছড়িতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে দুই নেতার হত্যা মামলার আসামি আটক

  পর্যটকদের পদচারণায় মুখর রাঙ্গামাটি ঘাগড়া কলা বাগানে অবস্থিত ঘাগড়া ঝর্ণা

  বাঘাইছড়িতে জেএসএস দুই নেতা হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন একজন আটক

  রাজস্থলীতে সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় রাজস্থলী-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান, টহল জোড়দার

  রাজস্থলীতে সেনা টহল দলের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণঃ স্থল মাইন বিষ্ফোরণ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ সেনা সদস্য আহত

  তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে-সচিব

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?