মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর, ২০১৮, ০৭:৫২:৪৬

জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্যের স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি !

জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্যের স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি !

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি-কাল শনিবার ১০ নভেম্বর। আশি দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় জুম্ম জাতির  এক বেদনার দিন। সাবেক সংসদ সদস্য ও পাহাড়িদের মুক্তিকামী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জুম্ম জাতীয় শোক দিবস। চার বিভেদপস্থীদের হাতে ১০ নভেম্বর মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাকে অতর্কিত আক্রমণে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। সেই ৮৩ মর্মান্তিক ট্রাজেডি আজও জুম্ম জাতিকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। প্রতি বছর এই দিনে শীতের সাথে বয়ে আনে শোকের বার্তা-১০ নভেম্বর। এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা, গভীর শোক আর ভালবাসায় ফুলে ফুলে সিক্ত হয় শহীদ বেদী। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা আজও জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি।
তিনিই প্রথম জুম্ম জাতির মানসে প্রগতিশীল নীতি-আদর্শ, চিন্ত-চেতনার বীজ বপন করে দেয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, জুম্ম জাতিকে স্ব-সম্মানে অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা শোষিত মানব জীবনের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর উদর, মানবিক, মানবমূখী, জীবনদর্শন আজও জুম্ম জাতির মুক্তি চিত্তের সার্বক্ষনিক আদর্শ। তাঁর নিদের্শিত পথই জুম্মজাতির মুক্তি পথ।  
প্রথম চরম জাতি বিদ্বেষী, আত্মভরী, ফ্যাসীবাদী কুপমন্ডুক শাসক গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়-অত্যাচার-নির্যাতন-শোষন-বঞ্চসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর সংগ্রাম শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে, শোষক শ্রেনীর বিরুদ্ধে, মানবতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাঁর ভাষায়-“যারা মরতে জানে পৃথিবীতে তারা অজোয়। যে জাতি বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে পারে না, পৃথিবীতে তাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার থাকতে পারে না”
তিনি রক্ষণশীল, পরনির্ভরশীল ও সামন্ত নেতৃত্বের বিরোধিতা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জম্ম জনগণের অধিকার রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রাখেন। তবে তাঁর গতিশীল চিন্তা কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মুক্তির সঙ্গে পার্বত্যবাসী জনগণের মুক্তি একই তারে বাঁধা, এ প্রতীতি তাঁর ছিল।
১৯৫৬ সাল থেকে এম এন লারমা ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে পর্দাপন করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব বিলোপের লক্ষ্যে শাসকশ্রেণির আগ্রাসী ঔপনিবেশিক তান্ডব ও ভ্রান্ত নীতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী নিবর্তনমূলক আইনে সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে; প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর এম এন লারমা ১৯৬৫ সালে মুক্তিলাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিপুল বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুবসমাজকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। সদ্য স্বাদীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নিয়ে এম এন লারমার ছিল আকাশসমান স্বপ্ন ও গভীর ভাবনা। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সময় তাঁর সেই স্বপ্ন বারবার উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি বলতেন, দেশের সংবিধান জাতিধর্ম-নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সব ধরনের জাতিগত নিপীড়ন, শোষণ-বঞ্চনা অবসান ঘটাবে। কিন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

  রাজস্থলীতে সেনা সদস্য নিহতের ঘটনায় রাজস্থলী-চন্দ্রঘোনা-বান্দরবান সড়কে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান, টহল জোড়দার

  রাজস্থলীতে সেনা টহল দলের উপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণঃ স্থল মাইন বিষ্ফোরণ ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ সেনা সদস্য আহত

  তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করতে জনবল বৃদ্ধিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে-সচিব

  রাঙ্গামাটিতে মাদক বিরোধী সচেতনতামুলক ডিজিটাল কিওস্ক এলইডি ডিসপ্লের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

  দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে একটি ব্রিজের দাবি বাস্তবায়িত করেনি কেউঃ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে এলাকাবাসী

  রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত

  জনগনের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের যা করার দরকার তাই করবে-বীর বাহাদুর ঊশৈসিং

  পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন কৃষদের মিশ্র ফল চাষ পরিদর্শনে পার্বত্য সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম

  পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর চিন্তার ফলশ্রুতি-নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা

  কাপ্তাই ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০টি মোটরযান এর বিরুদ্ধে মামলা

  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র‌্যালী ও আলোচনা সভা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষাপটে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলছেন, মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘রিভিউ’ করার কোনো প্রয়োজন নেই, চিকিৎসকদের কথাই যথেষ্ট। আপনি কি তাকে সমর্থন করেন?