শনিবার, ২৫ মে ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর, ২০১৮, ০৭:৫২:৪৬

জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্যের স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি !

জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি ও সাবেক সংসদ সদস্যের স্বপ্ন আজো পূরণ হয়নি !

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি-কাল শনিবার ১০ নভেম্বর। আশি দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয় জুম্ম জাতির  এক বেদনার দিন। সাবেক সংসদ সদস্য ও পাহাড়িদের মুক্তিকামী মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ৩৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জুম্ম জাতীয় শোক দিবস। চার বিভেদপস্থীদের হাতে ১০ নভেম্বর মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাকে অতর্কিত আক্রমণে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন। সেই ৮৩ মর্মান্তিক ট্রাজেডি আজও জুম্ম জাতিকে বাকরুদ্ধ করে দেয়। প্রতি বছর এই দিনে শীতের সাথে বয়ে আনে শোকের বার্তা-১০ নভেম্বর। এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা, গভীর শোক আর ভালবাসায় ফুলে ফুলে সিক্ত হয় শহীদ বেদী। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা আজও জুম্মজাতির আন্দোলনের প্রাণশক্তি।
তিনিই প্রথম জুম্ম জাতির মানসে প্রগতিশীল নীতি-আদর্শ, চিন্ত-চেতনার বীজ বপন করে দেয়। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, জুম্ম জাতিকে স্ব-সম্মানে অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই। মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা শোষিত মানব জীবনের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর উদর, মানবিক, মানবমূখী, জীবনদর্শন আজও জুম্ম জাতির মুক্তি চিত্তের সার্বক্ষনিক আদর্শ। তাঁর নিদের্শিত পথই জুম্মজাতির মুক্তি পথ।  
প্রথম চরম জাতি বিদ্বেষী, আত্মভরী, ফ্যাসীবাদী কুপমন্ডুক শাসক গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়-অত্যাচার-নির্যাতন-শোষন-বঞ্চসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর সংগ্রাম শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে, শোষক শ্রেনীর বিরুদ্ধে, মানবতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। তাঁর ভাষায়-“যারা মরতে জানে পৃথিবীতে তারা অজোয়। যে জাতি বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে পারে না, পৃথিবীতে তাদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার থাকতে পারে না”
তিনি রক্ষণশীল, পরনির্ভরশীল ও সামন্ত নেতৃত্বের বিরোধিতা করে পার্বত্য চট্টগ্রামের জম্ম জনগণের অধিকার রক্ষায় সাহসী ভূমিকা রাখেন। তবে তাঁর গতিশীল চিন্তা কেবল পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মুক্তির সঙ্গে পার্বত্যবাসী জনগণের মুক্তি একই তারে বাঁধা, এ প্রতীতি তাঁর ছিল।
১৯৫৬ সাল থেকে এম এন লারমা ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে পর্দাপন করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব বিলোপের লক্ষ্যে শাসকশ্রেণির আগ্রাসী ঔপনিবেশিক তান্ডব ও ভ্রান্ত নীতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারী নিবর্তনমূলক আইনে সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে; প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর এম এন লারমা ১৯৬৫ সালে মুক্তিলাভ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিপুল বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যুবসমাজকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। সদ্য স্বাদীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নিয়ে এম এন লারমার ছিল আকাশসমান স্বপ্ন ও গভীর ভাবনা। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান রচনার সময় তাঁর সেই স্বপ্ন বারবার উচ্চারণ করেছিলেন। তিনি বলতেন, দেশের সংবিধান জাতিধর্ম-নির্বিশেষে বাংলাদেশের আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং সব ধরনের জাতিগত নিপীড়ন, শোষণ-বঞ্চনা অবসান ঘটাবে। কিন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন আজও পূরণ হয়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

  অসাম্প্রদায়িক পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তুলতে মারমা জাতি গোষ্ঠী কাজ করে চলেছে-অংসুই প্রু চৌধুরী

  আমাদের দেশের জন্য যেসব সুচক দরকার সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেতে হবে-মোঃ এসএম শফি কামাল

  নানিয়ারচরে মিনি ট্রাক উল্টে একজন নিহত, আহত-১

  পার্বত্যাঞ্চলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপকর্মকান্ড বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সেনাক্যাম্প পূর্ণস্থাপনের দাবি

  আত্মনির্ভরশীল ও হতদরিদ্র মৎস্যজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী মৎস্যজীবীলীগ

  কাপ্তাইয়ে মহিলাদের অংশ গ্রহণে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

  বাঙ্গালহালিয়াতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত যুবলীগের নেতা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

  জনবল সংকটের বরকলের সমাজ সেবা অফিসঃ সুপারভাইজারকে কর্মকর্তার দায়িত্ব, মানুষের দূর্ভোগ

  বরকলে তথ্য সেবার উদ্যোগে উঠান বৈঠক

  লংগদুতে দেশীয় অস্ত্রসহ চাঁদাবাজ আটক

  রাজস্থলীতে যুবলীগ নেতাকে হত্যাঃ প্রতিবাদে রাঙ্গামাটি জেলা যুবলীগের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

ভোটের পর থেকে সংসদে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ায় সম্মতি দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সঠিক কাজটিই করেছেন। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?