বুধবার, ২৩ মে ,২০১৮

Bangla Version
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৭:৫৬:৪১

বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা ও বর্ণমালা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে-দীপংকর তালুকদার

বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভাষা ও বর্ণমালা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে-দীপংকর তালুকদার

রাঙ্গামাটিঃ-বর্তমান সরকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের ভাষা ও বর্ণমালা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রক্ষায় বদ্ধ পরিকার তাই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকটা ভাষাভাষি মানুষ তার নিজস্ব স্বত্তা বিকশিত করুক এটাই আমরা চাই। তিনি বলেন, নাটক জীবনের কথা বলে এই নাট্য উৎসবে যে সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী তাদের ভাষায় নাটক পরিবেশন করবে সেটা যাতে কোন বিকৃত না হয় সেই দিকে সকলকে লক্ষ্য রাখার আহবান জানান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটিতে তিন দিন ব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়ে দীপংকর তালুকদার এ কথা বলেন।
রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউট মিলনায়তনে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য সবির কুমার চাকমা, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিষ্টিটিউটের পরিচালক রুনেল চাকমা, উসাইয়ের প্রাক্তন পরিচালক সুগত চাকমা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষাকে যখন উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রীয় ভাষা করার ঘোষনা করলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, তখন বাংলার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল এবং তারা প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেছিল মাতৃভাষা বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসেবে ঘোষনা করতে হবে। এই ভাষা আন্দোলন থেকে পরবর্তিতে বহুুবিদ আন্দোলনে জন্ম হয়েছিল।
শুধু বাংলা ভাষাভাষী নয় পৃথিবীর যত সম্প্রদায় আছে তারা যেন তাদের মার্তৃভাষায় কথা বলতে পারে নিজেদর বর্ণমালায় পড়াশোনা করতে পারে এবং নিজেদের বর্ণমালা ভাষায় সাহিত্য চর্চ্চা করতে পারে এটা আমরা সকলেই চেয়েছি। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকতার কারনেই একুশে ফেব্রুয়ারী শুধুমাত্র বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছেনা, একুশে ফেব্রুয়ারী এখন আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসিবে স্বিকৃতি পেয়েছে। এ দিবসে সারা পৃথিবীতে মর্যাদার সাথে উদযাপন করি। আমরা এই পার্বত্য চট্টগ্রামে ১১টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতির বসবাস। রাঙ্গামাটির জেলার বাইরে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় গাড়, হাজং সাওতাল বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের বসবাস।
আমাদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূরণ করেছে। আমরা যেন সকল ভাষাভাষীর মানুষ নিজস্ব বর্ণমালায় লেখাপড়া শিখি। নিজেদের ভাষায় সাহিত্য চর্চ্চা করা যে সুযোগ তিনি সৃষ্টি করেছেন তার জন্য প্রধানমনত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটিতে ৫০জন শিক্ষক ভোলান্টিয়ার হিসেবে বিভিন্ন ভাষাশিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে বিনা বেতনে। বিনা বেতনে  কাজ করাটা খুবই কঠিন। সেজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি আবেদন করেছে ভাতা প্রদান করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী তাদের সেই আবেদন আমলে তাদের বেতনসহ বিভিন্ন ভাতা প্রদানের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়েছে এবং এই চিঠি প্রেরণ করেছে। আমরা আশা করছি তারা অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীর ন্যয় বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাবে বলে আমরা আশা করছি।
আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বর্ণমালা ও ভাষাকে কিভাবে আরো বিকশিত করা যায়  সেজন্য আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা ইন্সিটিউিটে পার্বত্য চট্টগ্রাম ফেকালিটি আছে সেভাবে তারা কাজ করে যাচ্ছে এবং আমাদের অনেক ভাষাবিদও সাহিত্যক এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকটা ভাষাভাষি মানুষ তার নিজস্ব স্বত্তা বিকশিত করুক। সকলে যার যার নয্য অধিকার তারা পাই। আজকের এই নাট্য উৎসবে যার যার ভাষায় নাটক পরিবেশন করবে এটা অত্যান্ত ইতিবাচক দিক এটা আরো উন্নতি হউক।
সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীদের ভাষা রক্ষায় নিজস্ব বর্ণমালার বই ছাত্র ছাত্রীদের হাতে তুলে দিয়েছে। স্কুল জীবন থেকে তাদের স্ব স্ব মাতৃ ভাষা লেখাপড়া করার মাধ্যমে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা করতে পারবে। তিনি বলেন, গত বছর রাঙ্গামাটি জেলায় প্রথম বারের মতো ১৭ হাজার এবং এবছর প্রায় ২৭ হাজার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রীকে হাতে এই বই তুলে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শিক্ষকদের মাতৃভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে আরো শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
নাট্য উৎসবে বৃহস্পতিবার জুম ফুল থিয়েটার রাঙ্গামাটির পরিবেশনায় চাকমা ভাষায় হুত্তেজ্যাপেদার ঘর তামাজা। কাল শুক্রবার খাগড়াছড়ির য়ামুক নাট্য গোষ্ঠী পরিবেশনায় নুখুং চামিরি এবং রাঙ্গামাটি ঝগড়াবিল ফু-কালাং সাংস্কৃতিক একাডেমীর পরিবেশনায় আক্কল নাটক মঞ্চস্থ হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

  সন্তানরা যাতে বিপথগামী হতে না পারে তার জন্য পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে-মোহাম্মদ পাভেল আকরাম

  বাঙ্গালহালিয়াতে ৬ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ আটক

  বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ভেজাল বিরোধী অভিযানঃ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

  ভবিষ্যতে আইসিটি প্রকল্পটিকে আরো আধুনিক করে গড়ে তুলতে বোর্ডের পরিকল্পনা রয়েছে-তরুন কান্তি ঘোষ

  সীতাকুন্ডে ত্রিপুরা কিশোরী হত্যারীদের শাস্তির দাবীতে রাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের মানববন্ধন

  কাপ্তাইয়ে দিনভর ভারি বৃষ্টিতে উপজেলা সদরের সড়কে হাঁটু পানি

  চুক্তিকে নৎসাতের ষড়যন্ত্র হিসেবে পাহাড়ে আবারও রক্তে হলি খেলা শুরু হয়েছে-উষাতন তালুকদার এমপি

  ঋণ যথাযথ কাজে ব্যবহার না করে বেকারত্ব জীবনে মুখ থুপরে পরছে-উদয় জয় চাকমা

  সমন্বয় না থাকলে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়-বৃষ কেতু চাকমা

  বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে-বৃষ কেতু চাকমা

  অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে-মোঃ রইসুল আলম মন্ডল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে আসবে তা এ দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে, এ বিষয়ে ভারতের ইন্টারফেয়ার করার কিছু নেই। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?