বুধবার, ২৩ মে ,২০১৮

Bangla Version
SHARE

বুধবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৮, ০৮:০০:০২

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নামে বিভ্রান্তিতকর সংবাদ পরিবেশন করায় সংবাদ সম্মেলন

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নামে বিভ্রান্তিতকর সংবাদ পরিবেশন করায় সংবাদ সম্মেলন

রাঙ্গামাটিঃ-ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় “বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি”, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা শাখাকে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরন বিষয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা শাখা।
বুধবার (১৭ জানুয়ারী) রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি সবিনয় দেওয়ান।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি তপন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ তালুকদার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাসান উদ্দিন, সদস্য প্রিয়রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলা হয়, কিছু ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা শাখাকে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের চাকুরী স্থায়ীকরন বিষয়ে যে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয় তা রাঙ্গামাটি সহ সমগ্র বাংলাদেশের প্রধান শিক্ষক সমিতির কর্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যার কারণে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার প্রধান শিক্ষকগণের চাকুরী স্থায়ী করণ সংক্রান্ত কর্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করার জন্যই আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, একজন সরকরী কর্মচারী সরকারী চাকুরীতে প্রবেশের সূচনা লগ্নে তিনি তার মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করে চাকুরীতে যোগদান করেন এবং অনতি বিলম্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করে থাকেন যা পুলিশ বিভাগ কর্তৃক গোপনীয় ভাবে তদন্ত কার্য সম্পাদন করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। আমরা প্রধান শিক্ষকগণও ঠিক সে রকম কার্য সম্পাদন পূর্বক চাকুরীতে যোগদান করি। সরকারী চাকুরীজীবি হিসেবে এযাবত যা জেনে এসেছি সন্তোষজনক তিন বছর চাকুরী কাল অতিক্রম হলেই সয়ংক্রিয় ভাবে চাকুরী স্থায়ী হয়ে যায়। সেই নিয়ম মোতাবেক আমদের চাকুরী স্থায়ী হয়েছে ইহাই ছিল আমাদের ধারণা। সম্ভবত (২০১৪/২০১৫) রাঙ্গামাটি জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলী হয়ে আসেন আবু জাফর সালেহ। তিনিই প্রথম ধারণা দেন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে।
তবে চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে তিনি যে তথ্যগুলো দাবী করেন তার কিছু তথ্য আমাদের হাতে থাকলেও পাঁচ বছরের এসিআর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট প্রভৃতি হাতে না থাকায় এবং সেগুলো সংগ্রহ করতে পর্যাপ্ত সময় আমাদের হাতে না থাকায় তখন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও চাকুরী স্থায়ীকরণের কাজ চলছে তবুও স্থায়ীকরণ না থাকার কারণে যা সমস্যা হওয়ার কথা সেসব সমস্য না হওয়ায় আমাদের কার্যক্রমও দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছিল।
এরপর ডিপিইও হিসেবে যোগদান করেন জিল্লুর রহমান। তিনিও চাকুরী স্থায়ীকরণের জন্য তাগাদা দেন এবং যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনে সমর্থ হচ্ছেন তারাই আবেদন করে চাকুরী স্থায়ীকরণ করে নিচ্ছিলেন। এভাবে তার সময় কালেও কিছু সংখ্যক শিক্ষকের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা হয়।
এরপর যোগদান করেন বর্তমান ডিপিইও রওশন আলী। ইতোমধ্যে তিনি নোটিশ জারী করেন বিদেশ গমন, পেনশন, মেডিকেল আবেদনের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন অথবা চাকুরী স্থায়ীকরণ আদেশ অবশ্যই প্রদান করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, রাঙ্গমাটি সদর উপজেলার শিক্ষকগণ অনেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বদলী হয়ে এখানে এসেছেন। চাকুরীর এত বছর অতিক্রম হওয়ার পর এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো আমরা কল্পনাই করতে পারিনি। আমাদের ৯০%-৯৫% শিক্ষকের হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। তবুও আমাদের নিকটতম অফিসার যাদের নিকট থেকে আমরা এসিআর সংগ্রহ করবো তারা এখন বদলী হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলে গিয়েছেন। সে সব অফিসারগণের নিকট থেকে আমাদের এসিআর নিয়ে এসে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। উপরšুÍ আমাদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। কিন্তু ০৯/০৩/২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেনীতে উন্নীত হওয়ার পর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষেরও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে আমাদের নিয়োগ ও পেনশন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ হচ্ছেন অধিদপ্তর অথবা মন্ত্রণালয়।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে তিনি আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণের সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে জানা যায় নিয়োগ, পেনশন, এলপিআর, পিআরএল, প্রমোশন যাবতীয় সুযোগ সুবিধা মঞ্জুর করেন আমাদের অধিদপ্তর বা মন্ত্রনালয়। এমতাবস্থায় জেলা পরিষদের চাকুরী স্থায়ীকরণ আদেশ ইনারা যদি গ্রহন না করেন তখন একই কাজ আমাদের দ্বিতীয় বার করতে হবে।
এমতাবস্থায় গত অক্টোবর/২০১৭ সালে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং আমাদের ১৯/১০/২০১৭ তারিখ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সভায়, কর্মরত ও অংশগ্রহনকারী সকল প্রধান শিক্ষক থেকে ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা গ্রহন পূর্বক একটি ফান্ড গঠন করা হবে। কোন প্রধান শিক্ষকের নিজের কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে আমাদের কাজে অংশগ্রহনের প্রয়োজন নেই। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় প্রধান ও সহকারী দুইটি শিক্ষক সমিতি বিদ্যমান। কাজেই প্রধান শিক্ষক সমিতি শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকদের কাজ সম্পাদন করবেন, তবে কোন প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্টজন যেমন স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে অথবা অতœীয়, বন্ধু অংশগ্রহন করতে চাইলে আমাদের সকল নিয়ম কানুন মানা সাপেক্ষ তিনি ঐ সুপারিশকৃত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে অংশগ্রহন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ঐ প্রধান শিক্ষকই তার দায়িত্ব গ্রহন করবেন। যেহেতু আমাদের পথ জানা নেই। এসিআর, পুলিশ ভেরিফিকেশন, যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে রাঙ্গামাটি বা ঢাকায় যোগাযোগের জন্য  কম বা বেশি খরচ হতে পারে। সে কারণে একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন পূর্বক যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ উক্ত কমিটি সম্পাদন করবেন। উত্তোলিত টাকায় কাজ সমাপ্ত না হলে শিক্ষকগন আবার টাকা দিতে বাধ্য থাকিবেন এবং কাজ শেষে অতিরিক্ত টাকা থাকলে হিসাবান্তে কমিটি তা ফেরত প্রদান করিবেন। সমুদয় অর্থ সমিতির একাউন্টে গচ্ছিত থাকবে এবং চেকের মাধ্যমে উত্তোলন পূর্বক ভাউচার পাশ করার মধ্যমে আয়-ব্যয় হিসাব সংরক্ষণ করা হবে নি¤œরুপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এই সমস্ত কাজ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সাভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমাদের কাজ চলতে থাকে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন জেলা উপজেলায় নিজে গিয়ে, লোক পাঠিয়ে, কুরিয়ার সার্ভিস বা যে কোন মাধ্যমে এসিআর সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ প্রান্তে। এরপর অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পন্ন করে আমরা আমাদের আবেদন কর্তৃপক্ষের বরাবর দাখিল করব।
আমাদের কাজ এখনো চলমান। আমাদের এই দায়িত্ব আমাদেরই সমিতির সাধারণ সদস্যগনের কল্যাণে, সদস্যগণ থেকে পাওয়া আর্থিক সহযোগীতায় এবং সদস্যগণের নিকট দায়বদ্ধ। আমাদের এই কাজের সাথে সকল প্রধান শিক্ষকদের চাকুরী, জীবনমান ও সম্মান জড়িত। আমাদের এই মহান কাজের উদ্দেশ্য, দৃষ্টিভঙ্গি, অবস্থান আপনাদের মাধ্যমে সবার কাছে প্রচারিত হোক সেটাই আমরা কামনা করি।

এই বিভাগের আরও খবর

  সন্তানরা যাতে বিপথগামী হতে না পারে তার জন্য পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে হবে-মোহাম্মদ পাভেল আকরাম

  বাঙ্গালহালিয়াতে ৬ লক্ষ টাকার সেগুন কাঠ আটক

  বাঙ্গালহালিয়া বাজারে ভেজাল বিরোধী অভিযানঃ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা

  ভবিষ্যতে আইসিটি প্রকল্পটিকে আরো আধুনিক করে গড়ে তুলতে বোর্ডের পরিকল্পনা রয়েছে-তরুন কান্তি ঘোষ

  সীতাকুন্ডে ত্রিপুরা কিশোরী হত্যারীদের শাস্তির দাবীতে রাঙ্গামাটিতে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের মানববন্ধন

  কাপ্তাইয়ে দিনভর ভারি বৃষ্টিতে উপজেলা সদরের সড়কে হাঁটু পানি

  চুক্তিকে নৎসাতের ষড়যন্ত্র হিসেবে পাহাড়ে আবারও রক্তে হলি খেলা শুরু হয়েছে-উষাতন তালুকদার এমপি

  ঋণ যথাযথ কাজে ব্যবহার না করে বেকারত্ব জীবনে মুখ থুপরে পরছে-উদয় জয় চাকমা

  সমন্বয় না থাকলে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়-বৃষ কেতু চাকমা

  বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে-বৃষ কেতু চাকমা

  অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে-মোঃ রইসুল আলম মন্ডল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে আসবে তা এ দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে, এ বিষয়ে ভারতের ইন্টারফেয়ার করার কিছু নেই। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?