শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৮, ০১:০২:৩৬

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ ইটভাটায় পাচার

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ ইটভাটায় পাচার

রাঙ্গামাটিঃ-রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার ঘনফুট জ্বালানি কাঠ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইটভাটায় পাচার হচ্ছে। ইটভাটাগুলোতে পোড়ানো হচ্ছে এই সকল জ্বালানি কাঠ। এতে রাঙ্গামাটি জেলার প্রাকৃতিক বন ব্যাপক হারে উজাড় হওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল। গত দুই মাসে কয়েক হাজার ঘনফুটের বেশি কাঠ আটক করার কথা স্বীকার করেছে বন বিভাগ। এদিকে গত বৃহস্পতিবার ঘাগড়া সেনা জোন কাঠ বোঝাই ৩ টি চাঁদের গাড়ী আটক করে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে জ্বালানি কাঠ পরিবহনের পারমিট (অনুমতিপত্র) দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, প্রাকৃতিক ও ব্যক্তিগত বাগানের কচি গাছগুলোকে রক্ষা করা। এমনকি জোত (ব্যক্তিগত বাগান) পারমিটের সঙ্গে আগে যে জ্বালানি কাঠের পারমিট দেওয়া হতো, তা-ও বন্ধ করা হয়েছে। তার পরও জ্বালানি কাঠ পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে শত শত চাঁদের গাড়ী দিয়ে কাঠ পাচার হলেও গত বৃহ্স্পতিবার দুপুরের পরে সেনাবাহিনী ৩ টি চাঁদের গাড়ী আটক করে। সেনাবাহিনী কর্তৃক আটককৃত চাঁদের গাড়ী গুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম-খ-১২২২, খুলনা ক- ৪৮২, ঢাকা ঘ-৩৮০১
বন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও স্থাণীয়রা জানান, জ্বালানি কাঠ পাচারের সঙ্গে সরকারি দল, বিরোধী দলসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের কয়েকটি চক্র জড়িত। কাঠ পাচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এসব চক্র থেকে হুমকি দেওয়া হয়। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় কাঠ পাচার করেন কয়েকজন চিহ্নিত আদিবাসী ও বাঙালি ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ী বলেন, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকার ইটভাটাগুলোতে রাঙ্গামাটির জ্বালানি কাঠের খুব চাহিদা। এসব কাঠ আদিবাসীদের কাছ থেকে প্রতি মণ ৪০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান।
কাঠ নিয়ে আসা আদিবাসী বলেন, জ্বালানি কাঠগুলো ব্যক্তিগত বাগান, প্রাকৃতিক বন ও জোত পারমিটের মাধ্যমে কাটা গাছের মাথা থেকে সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়।
জানা গেছে, জ্বালানি কাঠ পাচারের প্রধান স্থান সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি মসজিদঘাট। সেখানে সরেজমিনে দেখা যায়, হ্রদের পাশে স্তূপ করে প্রচুর জ্বালানি কাঠ রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি নৌকা থেকে কাঠ নামানো হচ্ছে। পরিবহনে সরকারি অনুমতি না থাকায় এসব কাঠ রাতে বিভিন্ন যানবাহনে করে নেওয়া হয় ইটভাটাগুলোতে।
গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক দিয়ে এক দিনে ট্রাক, চান্দের গাড়িসহ (হুড খোলা জিপ) শতাধিকের বেশি যানবাহনে জ্বালানি কাঠ নিতে দেখা গেছে। সড়কের ঘাগড়া এলাকায় বন বিভাগের একটি ফাঁড়ি আছে। কাঠ পাচারকারীরা সেই রুট ব্যবহার না করে বাজারের ভিতর দিয়ে বিকল্প রুট দিয়ে কাঠ রাঙ্গুনিয়ায় পাচার করছে।
যোগাযোগ করা হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে ঘাগড়া রেঞ্জ অফিসের ফরেষ্টার মোঃ সোলায়মান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাঠ চোরের দল অনেক শক্তিশালী। আমাদের উপর দিয়ে কোন প্রকার কাঠ পাচার করা হয় না। যা যায় তা টিপির মাধ্যমে নেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার ঘাগড়া সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে কাঠ বোঝাই ৩ টি পিকআপ আটক করে।  পরে আমাদেরকে বুঝিয়ে দিলে আমরা তা ঘাগড়া রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসি।

এই বিভাগের আরও খবর

  জেএসএস চুক্তি বিরোধীদের সাথে হাত মিলেয়েছে-দীপংকর তালুকদার

  পাহাড়ে সকল সম্প্রদায় যার যার সহাবস্থানে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে-মনি স্বপন দেওয়ান

  পার্বত্য চট্টগ্রাম স্থায়ী সমাধান পেতে সিংহ মার্কায় ভোট চাইলেন এমপি উষাতন তালুকদার

  রাঙ্গামাটি আসবাবপত্র সমিতিতে ১৪ মাসের মাথায় আহবায়ক কমিটি গঠন

  না ফেরার দেশে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ মোস্তফা কামাল

  রাঙ্গামাটিতে ৭১ টিভির মোবাইলে টিভি সাংবাদিকতার উপর দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

  সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমি আবারও বিজয়ী হয়ে মানুষের সেবা করার সুযোগ পাবো-ঊষাতন তালুকদার

  পার্বত্য এলাকায় যা উন্নয়ন হয়েছে তা আওয়ামীলীগ সরকারই করেছে-দীপংকর তালুকদার

  গণতন্ত্র ফেরাতে ধানের শীষে ভোট দিন-মনি স্বপন দেওয়ান

  পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জোড়দার করতে নৌকা প্রতীকে ভোট দিন-দীপংকর তালুকদার

  সকল প্রকার ভয়ভীতির উর্দ্ধে থেকে ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়লাভ করতে হবে-মনি স্বপন দেওয়ান

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিএনপির বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য তারা এসব অজুহাত তুলছে। আপনি কি তার সঙ্গে একমত?