মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ,২০১৭

Bangla Version
  
SHARE

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭, ০৭:৫৪:৪২

জেলা প্রশাসনকে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগঃ শরিয়ত উল্লাহর শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড

জেলা প্রশাসনকে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগঃ শরিয়ত উল্লাহর শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড

ইয়াছিন রানা সোহেলঃ-রাঙ্গামাটি শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ হিসেবে পরিচিত তবলছড়ি জামে মসজিদের খতিব এবং দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা হাজি শরিয়ত উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন পৌর এলাকার চার এলাকার বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী প্রত্যেকের নাম পরিচয় ও মোবাইল নাম্বারও তুলে ধরেছেন। রাঙ্গামাটি জেলাপ্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে হাজি শরিয়ত উল্লাহর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অপকর্ম তুলে ধরেন এবং এসব অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করেন। 
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, হাজি শরিয়ত উল্লাহ ১৯৯৪ সালে শহরের ৯নং ওয়ার্ডের আমানতবাগ এলাকায় ‘দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবদি আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব কখনো কাউকে দেখাননি এবং নিজের মনের মত করেই তা সংরক্ষণ করেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি হতে বছরের বিভিন্ন সময় অনুদান সংগ্রহ করেন এবং নিজের খেয়াল খুশি মত সেসব টাকা খরচ করেন। এই পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের কোনো অডিট হয়নি। নিজের খেয়াল খুশিমত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ করেন এবং তার কথামত না চললে বহিষ্কারও করেন। শরিয়ত উল্লাহর অপকর্মের প্রতিবাদ করায় ইতোমধ্যে মুফতি আতিকুর রহমান, মাওলানা আবুল হাশেম ও মাওলানা গাজী শহিদুল্লাহ সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে বহিস্কার করেন। অথচ গত মার্চ মাসে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উক্ত মাদ্রাসায় প্রায় সময় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী বলাৎকারের মত জঘন্য ঘটনা ঘটে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মাদ্রাসা ছেড়ে চলে গেছে। অনিয়মতান্ত্রিক শিক্ষক নিয়োগ ও বহিষ্কার বিষয়ে মাদ্রাসায় কর্মরত দশ জন শিক্ষক গত ২৫/০৫/২০১৩ইং তারিখে সভা করে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শরিয়ত উল্লাহর নিকট মাদ্রাসা পরিচালনার অনুরোধ জানালে তিনি এসবের কোনো পাত্তাই দেননি। কোনো প্রকার প্রশাসনিক ও শিক্ষা কারিকুলামের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিজের মত করেই মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আর তার এসব অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেন আর বলেন-প্রশাসনের বড় বড় কর্তা ব্যক্তিদের সাথে আমার হাত রয়েছে। আমি চাইলেই যা খুশি শাস্তি দিতে পারি।
এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত উক্ত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা হতে মাদ্রাসায় যেসমস্ত অনুদান প্রদান করা হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাবও রাখা হয়নি। উক্ত অর্থ কোথায় কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে তাও স্পষ্ট নয় এবং তদন্ত করলে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হবে বলে এলাকাবাসী অভিযোগে উল্লেখ করেন। মাদ্রাসার বাৎসরিক প্রতিবেদনে মাদ্রাসার টাকা সংগ্রহের ব্যাপারে (০১৮১১৩০৩০৪৩) এই নাম্বারটি ব্যবহার করা হলেও; জানা যায় এই ব্যক্তি মাদ্রাসার সাথে সম্পৃক্ত কেউ নন। এছাড়াও পৌর এলাকায় আরো চারটি প্রতিষ্ঠান সে পরিচালনা করে।
মাদ্রাসা সৃষ্টির পর থেকে এই পর্যন্ত কোনো পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়নি এবং কোনো প্রকার রেজুলেশন ছাড়াই শরিয়ত উল্লাহ নিজের ইচ্ছেমত মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তবে ২০১০সালে চট্টগ্রামের লাভনেইন এলাকার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ খায়রুল বশরকে সভাপতি করে একটি কমিটির কাগজপত্র পাওয়া গেলেও সেখানে স্থানীয় লোকজনের সংখ্যা ছিল কম। তবে যেসব লোকদের রাখা হয়েছে তাও হাজি শরিয়ত উল্লাহর মনোনিত। লিখিত অভিযোগের সাথে এলাকাবাসী তথ্য-প্রমাণও সংযুক্ত করেন।
হাজি শরিয়ত উল্লাহর এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে গত ৪/৮/২০১৬ খ্রি: এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে শরিয়ত উল্লাহ মিমাংসার জন্য পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীর শরনাপন্ন হয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে পৌর মেয়র গত ২/৪/২০১৭ খ্রি: তারিখে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে দেন। উক্ত কমিটির একটি মাত্র মিটিং করলেও হাজি শরিয়ত উল্লাহর কারণে কমিটি আর কোনো কাজ করতে পারেনি। গত ১৩/৮/২০১৭ খ্রি: তারিখে মাদ্রাসার সভা আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালককে প্রধান অতিথি করে দাওয়াতও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু উক্ত সভায় এলাকার কিংবা পৌর মেয়র গঠিত কমিটির কাউকেই দাওয়াত দেয়া হয়নি।
লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, মাদ্রাসার নিজস্ব দোকানঘরসমূহ তার স্ত্রী বিবি ফাতেমার নিকট বন্ধকী হিসেবে রেখে প্রতি মাসে দোকান ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা করে পরিশোধ করছেন। এছাড়াও তিনি হজ্বে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার দোকান বন্ধক রেখে মাদ্রাসার তিন শিক্ষকের কাছ থেকে বিশ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়াও লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নে রাজানগর মাদ্রাসার জমি নিজের নামে নাম জারি করে প্রতারনা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে শরিয়ত উল্লাহর বিরুদ্ধে।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, হাজি শরিয়ত উল্লাহ তবলছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকাবাসী একজন সহকারি ইমাম নিয়োগের জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও শরিয়ত উল্লাহর কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না এবং ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি বাধা প্রদান করেন।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাজি শরিয়ত উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি বারবার বলেন ‘ভাই আমি আপনার সাথে দেখা করব’। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
গত ১৩ আগস্ট রাঙ্গামাটি জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের কাছে চার এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। জেলাপ্রশাসক ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস, এম, মনজুরুল হক জানান, অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১২ নভেম্বর মাদ্রাসায় সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে এবং তদন্ত পূর্বক জেলা প্রশাসকের নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। ওই দিন অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

  ইঁদুরের ক্ষতিকর দিকগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সম্যক ধারণা দিতে হবে-বৃষ কেতু চাকমা

  পার্বত্যাঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা গেলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব-মানজারুল মান্নান

  লংগদুতে নদীর পানিতে ডুবে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু

  টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটিসহ ১০ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

  রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে যাত্রীবাহী বাসের নামে মরণ ফাঁদ

  কাপ্তাই হ্রদে পানি ধারণ ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়,বাঁধ রক্ষায় ১৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে

  কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালন নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিং

  আদিবাসী গুর্খা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব “ভৈল ঢেউসি” উদযাপিত

  পাহাড়ে সংঘাত বন্ধের আসার আহবান জানিয়েছেন ড. এফ দীপংকর মহাথেরো (ধুতাঙ্গ ভান্তে)

  নোংরা পরিবেশে পাউরুটি বিস্কুট রাখার দায়ে বেকারি মালিকের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

  ভবনের অভাবে লংগদু রাবেতা মডেল কলেজকে স্নাতক মানে উন্নীত করা যাচ্ছে না

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও এখন এটা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি কি তার এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত?