রবিবার, ২২ এপ্রিল ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭, ০৮:৫২:৩৮

সীতাকুণ্ডের তিন ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রম শুরু

সীতাকুণ্ডের তিন ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রম শুরু

চট্টগ্রামঃ-শিশু মৃত্যুর কারণে আলোচনায় আসা সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরা পাড়াসহ তিন ইউনিয়নে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, শনিবার (২৯জুলাই) সকাল থেকে ত্রিপুরা পাড়ায় টিকাদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলার তিন নম্বর পৌরসভা, সাত নম্বর কুমিরা ইউনিয়ন ও আট নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ হাজার টিকা দেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
গত মাসের শেষ দিক থেকে বারআউলিয়ার সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পাড়ার শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মত উপসর্গ দেখা দিতে থাকে। কিন্তু অভিভাবকরা হাসপাতালে না যাওয়ায় চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারে গত বুধবার পর্যন্ত নয় শিশুর মৃত্যুর পর।
পরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আরো ৪৬ জনকে।
‘অজ্ঞাত’ রোগে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) গবেষক দল ওই এলাকায় যায়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ‘শিশুরা দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে এক ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে’ বলে জানান আইইডিসিআরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে শেষ পর্যন্ত শিশুমৃত্যুর পেছনে ‘হামকে’ চিহ্নিত করার কথা জানায় সরকার। এরপর ত্রিপুরা পাড়ায় দুটি টিকাদান কেন্দ্রের সঙ্গে স্যাটেলাইট ক্লিনিক চালুর কথা বলেছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন।
শনিবার সংবাদ সম্মেলনে আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী মোট ৪৬ হাজার ১৪৫ শিশুকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টিকার আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, “টিকাদানের পরপরই শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আসে না। এ জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
“যাদের টিকা দেওয়া হবে তাদের মধ্যে পাঁচ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩১ হাজার ২২৫ জনকে ৮২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। বাকিরা ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু। এদেরকে সরকারি ইপিআই কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে।”
ত্রিপুরা পাড়ায় ক্লিনিক
হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ত্রিপুরা পাড়ায় একটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশে এ ক্লিনিক স্থাপন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শুরুতে একটি অস্থায়ী ক্লিনিক স্থাপন করে কাজ শুরু করব। পরবর্তীতে দ্রুত স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করব।”
ত্রিপুরা পাড়ায় হামের প্রাদূর্ভাবের পর সারা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ ধরনের কোনো দুর্গম এলাকা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
ত্রিপুরা পাড়া থেকে মোট ১২৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তার মধ্যে ১০৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে তথ্য দিয়েছেন সিভিল সার্জন।
তিনি বলেন, “এ ঘটনার পরপরই ত্রিপুরা পাড়ায় পুষ্টিকর খাবার, ত্রিশ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও দশ হাজার ওরস্যালাইনের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদী পুষ্টি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে ইউনিসেফের সহায়তায়।”
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এ এম মজিবুল হক ও ইপিআই সদর দপ্তরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শামসুজ্জামান।

এই বিভাগের আরও খবর

  খালেদা জিয়ার কিছু হলে সমস্ত দায় সরকারের-মির্জা ফখরুল

  গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন-মির্জা ফখরুল

  লন্ডনে বসে বাংলাদেশকে অশান্ত'র ষড়যন্ত্র করছে তারেক রহমান-হানিফ

  সিটি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনা চায় বিএনপি

  মির্জা ফখরুলের মা আর নেই

  মেডিকেল রিপোর্টে খালেদা জিয়ার ঘাড়ে, কোমরের হাড়ে সমস্যা পাওয়া গেছে

  ‘খালেদা জিয়া যে কোনও সময় হার্ট অ্যাটাক-পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হতে পারেন’

  শুধু মুক্তিযোদ্ধা, নারী, নৃ-গোষ্ঠীর কোটার পক্ষে বিএনপি

  কোটা সংস্কারের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক-ফখরুল

  নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়োগের ক্ষমতা ইসির নেই-ওবায়দুল কাদের

  সরকারের চিকিৎসায় বিশ্বাস নেই-মওদুদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

সাবেক সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ প্লেটে তুলে দেওয়া যায় না; রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে নামলে খেলতে খেলতেই সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়। আপনি কি তা মনে করেন?